পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস (West Bengal History)
📚 ভূমিকা (Introduction)
পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস ভারতের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রাচীন বঙ্গ (Vanga) রাজ্য থেকে শুরু করে পাল, সেন, বঙ্গ সালতানাত, মুঘল শাসন, ব্রিটিশ শাসন, বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের গঠন—প্রতিটি পর্যায়ই পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
WB Panchayat, WBCS, WBPSC, Food SI, WB Police, Railway, SSC-সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে।
পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসের সময়কাল
পড়াশোনার সুবিধার জন্য ইতিহাসকে সাধারণত চারটি ভাগে ভাগ করা হয়।
| সময়কাল | প্রধান বিষয় |
|---|---|
| প্রাচীন যুগ | বঙ্গ, গৌড়, পুণ্ড্র, মগধের প্রভাব |
| মধ্যযুগ | পাল, সেন, মুসলিম শাসন |
| আধুনিক যুগ | ইউরোপীয় আগমন, ব্রিটিশ শাসন, নবজাগরণ |
| স্বাধীনতার পর | দেশভাগ, পশ্চিমবঙ্গের গঠন, পুনর্গঠন |
প্রাচীন বাংলার পরিচয়
প্রাচীনকালে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে বিভিন্ন নামে উল্লেখ করা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলি ছিল—
- বঙ্গ (Vanga)
- গৌড় (Gauda)
- রাঢ় (Rarh)
- পুণ্ড্র (Pundravardhana)
- সুহ্ম (Suhma)
মহাভারত, পুরাণ এবং অন্যান্য প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যে "বঙ্গ" নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। পরবর্তীকালে এই অঞ্চল মগধ সাম্রাজ্যের প্রভাবাধীন হয়।
বঙ্গ (Vanga)
বঙ্গ ছিল প্রাচীন ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনপদ।
বৈশিষ্ট্য
- পূর্ব ভারতের শক্তিশালী জনপদ
- নদী ও সমুদ্রপথে উন্নত বাণিজ্য
- কৃষিনির্ভর অর্থনীতি
- নৌবাণিজ্যের জন্য পরিচিত
পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ
বাংলা (Bangla/Bengal) শব্দটির উৎপত্তি বঙ্গ (Vanga/Banga) নাম থেকে হয়েছে বলে অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মত।
গৌড় (Gauda)
প্রাচীন ও মধ্যযুগে গৌড় ছিল বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
বৈশিষ্ট্য
- রাজধানী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ
- পরবর্তীকালে গৌড় নগরী মধ্যযুগীয় বাংলার রাজধানী হয়
- বর্তমানে মালদা জেলার গৌড়ের ধ্বংসাবশেষ ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে পরিচিত
রাঢ় (Rarh)
রাঢ় অঞ্চল বর্তমান—
- বীরভূম
- বর্ধমান
- বাঁকুড়া
- পুরুলিয়ার অংশ
জুড়ে বিস্তৃত ছিল।
বৈশিষ্ট্য
- লাল মাটি
- কৃষি ও লোকসংস্কৃতির বিকাশ
- প্রাচীন সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য
পুণ্ড্র (Pundravardhana)
বর্তমান উত্তরবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাংশে পুণ্ড্র অঞ্চল বিস্তৃত ছিল।
বৈশিষ্ট্য
- উন্নত কৃষি
- বাণিজ্য
- নগর সভ্যতা
মগধ সাম্রাজ্যের প্রভাব
খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকের দিকে বঙ্গ অঞ্চল মগধ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।
পরবর্তীকালে—
- নন্দ সাম্রাজ্য
- মৌর্য সাম্রাজ্য
- গুপ্ত সাম্রাজ্য
এই অঞ্চল শাসন করে।
🎯 Exam Booster
মনে রাখুন
| প্রাচীন নাম | বর্তমান পরিচিতি |
|---|---|
| বঙ্গ | Bengal |
| গৌড় | মালদা অঞ্চল |
| রাঢ় | পশ্চিমাঞ্চল |
| পুণ্ড্র | উত্তরবঙ্গ |
📌 Quick Revision
- বাংলা শব্দ এসেছে বঙ্গ থেকে।
- প্রাচীন বাংলার প্রধান অঞ্চল—বঙ্গ, গৌড়, রাঢ়, পুণ্ড্র।
- মগধ, মৌর্য ও গুপ্ত সাম্রাজ্যের শাসন বাংলায় বিস্তৃত ছিল।
- গৌড় ছিল মধ্যযুগীয় বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী।
📝 MCQ (১–৫)
প্রশ্ন ১.
"বাংলা" নামটির উৎপত্তি কোন প্রাচীন জনপদের নাম থেকে হয়েছে?
A. গৌড়
B. বঙ্গ
C. রাঢ়
D. পুণ্ড্র
✅ সঠিক উত্তর: B. বঙ্গ
📖 ব্যাখ্যা: অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে "বাংলা" বা "বেঙ্গল" নামটি প্রাচীন বঙ্গ (Vanga/Banga) জনপদের নাম থেকেই এসেছে।
প্রশ্ন ২.
নিম্নের কোনটি প্রাচীন বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ছিল না?
A. রাঢ়
B. পুণ্ড্র
C. সুহ্ম
D. অবন্তী
✅ সঠিক উত্তর: D. অবন্তী
📖 ব্যাখ্যা: অবন্তী মধ্য ভারতের একটি মহাজনপদ ছিল। বঙ্গ, রাঢ়, পুণ্ড্র ও সুহ্ম ছিল প্রাচীন বাংলার গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।
প্রশ্ন ৩.
গৌড়ের ঐতিহাসিক ধ্বংসাবশেষ বর্তমানে প্রধানত কোন জেলায় অবস্থিত?
A. মুর্শিদাবাদ
B. মালদা
C. নদীয়া
D. বীরভূম
✅ সঠিক উত্তর: B. মালদা
📖 ব্যাখ্যা: প্রাচীন গৌড় নগরীর অধিকাংশ ধ্বংসাবশেষ বর্তমান মালদা জেলায় অবস্থিত এবং এটি বাংলার ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল।
প্রশ্ন ৪.
নন্দ, মৌর্য ও গুপ্ত সাম্রাজ্যের সঙ্গে বাংলার সম্পর্ক কী?
A. তারা বাংলায় কখনও শাসন করেনি
B. বাংলা তাদের শাসনাধীন ছিল
C. তারা শুধুমাত্র বাণিজ্য করত
D. তারা শুধু উপকূলীয় অঞ্চল শাসন করত
✅ সঠিক উত্তর: B. বাংলা তাদের শাসনাধীন ছিল
📖 ব্যাখ্যা: প্রাচীন বাংলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিভিন্ন সময়ে নন্দ, মৌর্য ও গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল।
প্রশ্ন ৫.
রাঢ় অঞ্চল প্রধানত বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের কোন অংশে অবস্থিত ছিল?
A. উত্তরবঙ্গ
B. পশ্চিমাঞ্চল
C. উপকূলীয় অঞ্চল
D. সুন্দরবন
✅ সঠিক উত্তর: B. পশ্চিমাঞ্চল
📖 ব্যাখ্যা: রাঢ় অঞ্চল বর্তমান বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও বর্ধমানের পশ্চিমাংশজুড়ে বিস্তৃত ছিল এবং লাল মাটির জন্য পরিচিত।
মৌর্য যুগে বাংলা (Bengal under the Mauryas)
খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য নন্দ সাম্রাজ্যকে পরাজিত করে মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। এর পর বাংলা মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।
সম্রাট অশোক (খ্রিস্টপূর্ব ২৬৮–২৩২) বাংলার প্রশাসনিক উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বৌদ্ধধর্মের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
মৌর্য যুগের বৈশিষ্ট্য
- শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন
- উন্নত প্রশাসনিক ব্যবস্থা
- বাণিজ্যের প্রসার
- বৌদ্ধধর্মের বিস্তার
- সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন
পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ
📌 চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য → মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা।
📌 অশোক → বৌদ্ধধর্ম প্রচারে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সম্রাট।
গুপ্ত যুগে বাংলা (Bengal under the Guptas)
চতুর্থ শতাব্দীতে বাংলা গুপ্ত সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।
এই সময়কে ভারতের "স্বর্ণযুগ (Golden Age)" বলা হয়।
গুপ্ত যুগের বৈশিষ্ট্য
- সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশ
- বিজ্ঞান ও গণিতের অগ্রগতি
- শিল্পকলার উন্নতি
- স্থিতিশীল প্রশাসন
সমুদ্রগুপ্ত
সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ স্তম্ভলিপি থেকে বাংলার বিভিন্ন রাজ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়।
এটি পরীক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শশাঙ্ক (Shashanka)
গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পরে বাংলায় প্রথম স্বাধীন শক্তিশালী রাজা ছিলেন শশাঙ্ক।
তিনি সপ্তম শতাব্দীতে গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
শশাঙ্কের রাজধানী
✅ কর্ণসুবর্ণ
বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার নিকটে অবস্থিত।
শশাঙ্কের গুরুত্ব
- বাংলার প্রথম স্বাধীন শাসক হিসেবে পরিচিত।
- গৌড়কে শক্তিশালী রাজ্যে পরিণত করেন।
- উত্তর ভারতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেন।
🎯 Exam Booster
বাংলার প্রথম স্বাধীন নৃপতি
✅ শশাঙ্ক
পাল সাম্রাজ্য (Pala Dynasty)
শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় কিছু সময় অরাজকতা চললেও অষ্টম শতকে গোপাল পাল রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
পাল সাম্রাজ্য প্রায় চারশো বছর বাংলায় শাসন করে।
পাল রাজাদের ক্রম
| রাজা | গুরুত্বপূর্ণ তথ্য |
|---|---|
| গোপাল | পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা |
| ধর্মপাল | সাম্রাজ্যের সর্বাধিক বিস্তার |
| দেবপাল | সাম্রাজ্যের শক্তি আরও বৃদ্ধি করেন |
পাল যুগের বৈশিষ্ট্য
- বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা
- আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়
- শিল্প ও ভাস্কর্যের উন্নতি
- বাংলার রাজনৈতিক ঐক্য
বিক্রমশীলা বিশ্ববিদ্যালয়
ধর্মপাল বিক্রমশীলা মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেন বলে অধিকাংশ ঐতিহাসিক মত দেন।
এটি বৌদ্ধ শিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল।
সোমপুর মহাবিহার
বর্তমান বাংলাদেশের পাহাড়পুরে অবস্থিত।
এটি UNESCO World Heritage Site।
পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ
গোপাল
➡ জনগণের ভোটে নির্বাচিত বাংলার প্রথম রাজা হিসেবে পরিচিত।
সেন রাজবংশ (Sena Dynasty)
পাল সাম্রাজ্যের পতনের পরে সেন রাজবংশ বাংলার শাসনভার গ্রহণ করে।
সেন বংশের প্রধান রাজা
- বিজয়সেন
- বল্লালসেন
- লক্ষ্মণসেন
বল্লালসেন
সবচেয়ে বেশি পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে।
অবদান
- কৌলিন্য প্রথা প্রচলন
- সামাজিক সংস্কার
- ব্রাহ্মণ্য ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা
লক্ষ্মণসেন
সেন বংশের শেষ গুরুত্বপূর্ণ শাসক।
তার শাসনকালে বখতিয়ার খলজি বাংলা আক্রমণ করেন।
এর মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হয়।
পাল ও সেন বংশের তুলনা
| বিষয় | পাল | সেন |
|---|---|---|
| ধর্ম | বৌদ্ধ | হিন্দু |
| প্রতিষ্ঠাতা | গোপাল | বিজয়সেন |
| বিখ্যাত রাজা | ধর্মপাল | বল্লালসেন |
| শেষ গুরুত্বপূর্ণ রাজা | দেবপাল-পরবর্তী দুর্বলতা | লক্ষ্মণসেন |
📌 পরীক্ষায় বারবার আসা তথ্য
| বিষয় | উত্তর |
|---|---|
| বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজা | শশাঙ্ক |
| রাজধানী | কর্ণসুবর্ণ |
| পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা | গোপাল |
| সর্বশ্রেষ্ঠ পাল রাজা | ধর্মপাল |
| সেন বংশের বিখ্যাত রাজা | বল্লালসেন |
| সেন বংশের শেষ গুরুত্বপূর্ণ রাজা | লক্ষ্মণসেন |
| বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা | বখতিয়ার খলজির আক্রমণ |
📝 MCQ (৬–২০)
প্রশ্ন ৬.
মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে?
✅ সঠিক উত্তর: B. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
📖 ব্যাখ্যা: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য নন্দ সাম্রাজ্যের অবসান ঘটিয়ে মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রশ্ন ৭.
বাংলায় বৌদ্ধধর্মের প্রসারে কোন মৌর্য সম্রাটের অবদান সর্বাধিক?
✅ সঠিক উত্তর: C. অশোক
📖 ব্যাখ্যা: কলিঙ্গ যুদ্ধের পর অশোক বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন এবং সাম্রাজ্যজুড়ে তার প্রচার করেন।
প্রশ্ন ৮.
ভারতের "স্বর্ণযুগ" নামে পরিচিত কোন যুগ?
✅ সঠিক উত্তর: B. গুপ্ত যুগ
📖 ব্যাখ্যা: সাহিত্য, বিজ্ঞান, শিল্প ও সংস্কৃতির অসাধারণ বিকাশের কারণে গুপ্ত যুগকে ভারতের স্বর্ণযুগ বলা হয়।
প্রশ্ন ৯.
এলাহাবাদ স্তম্ভলিপি কার সঙ্গে সম্পর্কিত?
✅ সঠিক উত্তর: B. সমুদ্রগুপ্ত
📖 ব্যাখ্যা: সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ স্তম্ভলিপিতে বাংলাসহ বিভিন্ন রাজ্যের বিবরণ পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ১০.
বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজা কে?
✅ সঠিক উত্তর: B. শশাঙ্ক
📖 ব্যাখ্যা: গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পর শশাঙ্ক স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রশ্ন ১১.
শশাঙ্কের রাজধানী কোথায় ছিল?
✅ সঠিক উত্তর: B. কর্ণসুবর্ণ
📖 ব্যাখ্যা: কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী, যা বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার নিকটে অবস্থিত।
প্রশ্ন ১২.
পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
✅ সঠিক উত্তর: B. গোপাল
📖 ব্যাখ্যা: অষ্টম শতকে গোপাল জনগণের সমর্থনে পাল রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রশ্ন ১৩.
পাল বংশের সর্বাধিক শক্তিশালী শাসক কে?
✅ সঠিক উত্তর: B. ধর্মপাল
📖 ব্যাখ্যা: ধর্মপালের আমলে পাল সাম্রাজ্য সর্বাধিক বিস্তৃত ও শক্তিশালী হয়।
প্রশ্ন ১৪.
বিক্রমশীলা মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেন কে?
✅ সঠিক উত্তর: B. ধর্মপাল
📖 ব্যাখ্যা: ধর্মপাল বিক্রমশীলা মহাবিহারের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন, যা বৌদ্ধ শিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
প্রশ্ন ১৫.
পাল রাজারা প্রধানত কোন ধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন?
✅ সঠিক উত্তর: B. বৌদ্ধধর্ম
📖 ব্যাখ্যা: পাল শাসকেরা মহাযান বৌদ্ধধর্মের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পরিচিত।
প্রশ্ন ১৬.
সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
✅ সঠিক উত্তর: A. বিজয়সেন
📖 ব্যাখ্যা: বিজয়সেন পাল শাসনের অবসানের পর সেন রাজবংশকে শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করেন।
প্রশ্ন ১৭.
কৌলিন্য প্রথা কার সঙ্গে সম্পর্কিত?
✅ সঠিক উত্তর: B. বল্লালসেন
📖 ব্যাখ্যা: বল্লালসেন সমাজে কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তনের জন্য পরিচিত।
প্রশ্ন ১৮.
সেন বংশের শেষ গুরুত্বপূর্ণ শাসক কে?
✅ সঠিক উত্তর: C. লক্ষ্মণসেন
📖 ব্যাখ্যা: লক্ষ্মণসেনের শাসনকালেই বখতিয়ার খলজির আক্রমণের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হয়।
প্রশ্ন ১৯.
বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা কার আক্রমণের মাধ্যমে?
✅ সঠিক উত্তর: C. বখতিয়ার খলজি
📖 ব্যাখ্যা: প্রায় ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খলজি নবদ্বীপ দখল করেন, যা বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হিসেবে বিবেচিত।
প্রশ্ন ২০.
নিম্নের কোন যুগে বাংলায় বৌদ্ধ শিক্ষা ও মহাবিহারগুলির সর্বাধিক বিকাশ ঘটে?
✅ সঠিক উত্তর: B. পাল যুগ
📖 ব্যাখ্যা: পাল শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতায় নালন্দা, বিক্রমশীলা ও সোমপুর মহাবিহারের মতো শিক্ষাকেন্দ্র আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করে।
বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা
১২০৪ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি নবদ্বীপ আক্রমণ করে সেন শাসনের অবসান ঘটান। এর মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হয়।
প্রথমদিকে বাংলা দিল্লি সালতানাতের অধীন থাকলেও পরবর্তীকালে স্বাধীন বাংলার সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
বাংলার স্বাধীন সুলতানি শাসন (Independent Bengal Sultanate)
চতুর্দশ শতাব্দীতে বাংলায় স্বাধীন সুলতানি শাসনের বিকাশ ঘটে।
উল্লেখযোগ্য সুলতান
- শামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ
- সিকান্দার শাহ
- গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
ইলিয়াস শাহ
পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ
- ইলিয়াস শাহকে বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান হিসেবে ধরা হয়।
- তিনি সমগ্র বাংলাকে একত্রিত করেন।
- ইলিয়াস শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
হোসেন শাহের (১৪৯৪–১৫১৯) শাসনকালকে বাংলার "স্বর্ণযুগ" বলা হয়।
কারণ
- প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা
- সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশ
- ধর্মীয় সহিষ্ণুতা
- বাণিজ্যের উন্নতি
🎯 Exam Booster
বাংলার সুলতানি যুগের স্বর্ণযুগ
✅ হোসেন শাহের শাসনকাল
বাংলায় মুঘল শাসন
১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে রাজমহলের যুদ্ধ (Battle of Rajmahal)-এ দাউদ খান কররানী পরাজিত হন।
এরপর বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।
মুঘল সুবা বাংলা
মুঘল আমলে বাংলা ছিল ভারতের অন্যতম সমৃদ্ধ সুবা (Subah)।
প্রধান বৈশিষ্ট্য
- কৃষির উন্নতি
- আন্তর্জাতিক বাণিজ্য
- বস্ত্র শিল্পের বিকাশ
- নদীপথে যোগাযোগ
রাজধানী
প্রথমে রাজমহল
পরবর্তীকালে
ঢাকা
এরপর
মুর্শিদাবাদ
মুর্শিদ কুলি খান
মুঘল বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নবাব।
অবদান
- রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর
- রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার
- প্রশাসনিক উন্নতি
বাংলার নবাব
| নবাব | গুরুত্বপূর্ণ তথ্য |
|---|---|
| মুর্শিদ কুলি খান | রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর |
| আলীবর্দী খান | মারাঠা আক্রমণ প্রতিরোধ |
| সিরাজউদ্দৌলা | বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব |
ইউরোপীয়দের আগমন
ভারতের মতো বাংলাতেও বিভিন্ন ইউরোপীয় শক্তি আসে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে।
প্রধান ইউরোপীয় শক্তি
| শক্তি | আগমন |
|---|---|
| পর্তুগিজ | প্রথম |
| ডাচ | পরে |
| ফরাসি | চন্দননগর |
| ডেনিশ | শ্রীরামপুর |
| ইংরেজ | কলকাতা |
পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ
বাংলায় প্রথম ইউরোপীয়
✅ পর্তুগিজ
ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
১৬০০ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বাণিজ্যের অনুমতি দেন।
বাংলায় কোম্পানির প্রভাব ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়।
কলকাতার প্রতিষ্ঠা
জব চার্নক ১৬৯০ সালে সুতানুটি অঞ্চলে ইংরেজ বাণিজ্যকেন্দ্র গড়ে তোলেন।
পরবর্তীকালে
- সুতানুটি
- গোবিন্দপুর
- কলকাতা
এই তিনটি গ্রাম নিয়ে কলকাতা শহরের বিকাশ ঘটে।
পরীক্ষা-নোট: আধুনিক গবেষণায় কলকাতার প্রতিষ্ঠা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে; তবুও বহু প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ১৬৯০ সালে জব চার্নকের আগমন একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে জিজ্ঞাসা করা হয়।
ফোর্ট উইলিয়াম
ইংরেজরা কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মাণ করে।
এটি পরবর্তীকালে ইংরেজ শক্তির প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
পলাশীর যুদ্ধ (Battle of Plassey)
সাল
✅ ২৩ জুন ১৭৫৭
কার মধ্যে যুদ্ধ হয়?
- সিরাজউদ্দৌলা
- রবার্ট ক্লাইভ
যুদ্ধক্ষেত্র
পলাশী
বর্তমান নদীয়া জেলার নিকটবর্তী এলাকা (বর্তমানে প্রশাসনিকভাবে মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তর্গত পলাশী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত)।
পরাজয়ের কারণ
- মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা
- ষড়যন্ত্র
- দুর্বল সামরিক নেতৃত্ব
- ইংরেজদের কূটনীতি
ফলাফল
- বাংলায় ইংরেজ আধিপত্যের সূচনা
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধি
- ভারতের ইতিহাসে ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়
🎯 Exam Booster
মনে রাখুন
| সাল | ঘটনা |
|---|---|
| ১২০৪ | বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয় |
| ১৩৪২ | ইলিয়াস শাহের শাসনের সূচনা (স্বাধীন বাংলার সুলতানি শক্তির উত্থান) |
| ১৫৭৬ | রাজমহলের যুদ্ধ |
| ১৬০০ | ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠা |
| ১৬৯০ | জব চার্নকের কলকাতায় আগমন (পরীক্ষায় প্রচলিত তথ্য) |
| ১৭৫৭ | পলাশীর যুদ্ধ |
📌 পরীক্ষায় বারবার আসা তথ্য
| বিষয় | উত্তর |
|---|---|
| বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান | শামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ |
| বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব | সিরাজউদ্দৌলা |
| প্রথম ইউরোপীয় | পর্তুগিজ |
| ইংরেজ দুর্গ | ফোর্ট উইলিয়াম |
| পলাশীর যুদ্ধ | ২৩ জুন ১৭৫৭ |
| ইংরেজ সেনাপতি | রবার্ট ক্লাইভ |
| বিশ্বাসঘাতক | মীরজাফর |
📝 MCQ (২১–৪০)
প্রশ্ন ২১.
বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা কার আক্রমণের মাধ্যমে হয়?
✅ সঠিক উত্তর: C. বখতিয়ার খলজি
📖 ব্যাখ্যা: ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খলজি নবদ্বীপ দখল করে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন।
প্রশ্ন ২২.
বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান কে?
A. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
B. শামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ
C. সিকান্দার শাহ
D. নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ
✅ সঠিক উত্তর: B. শামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ
📖 ব্যাখ্যা: ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলাকে ঐক্যবদ্ধ করে ইলিয়াস শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রশ্ন ২৩.
বাংলার সুলতানি যুগের "স্বর্ণযুগ" কার শাসনকালে?
A. ইলিয়াস শাহ
B. সিকান্দার শাহ
C. হোসেন শাহ
D. দাউদ খান
✅ সঠিক উত্তর: C. হোসেন শাহ
📖 ব্যাখ্যা: হোসেন শাহের আমলে সাহিত্য, শিল্প, বাণিজ্য ও প্রশাসনের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়।
প্রশ্ন ২৪.
১৫৭৬ সালের রাজমহলের যুদ্ধে কে পরাজিত হন?
A. মীরকাশিম
B. সিরাজউদ্দৌলা
C. দাউদ খান কররানী
D. মীরজাফর
✅ সঠিক উত্তর: C. দাউদ খান কররানী
📖 ব্যাখ্যা: রাজমহলের যুদ্ধে দাউদ খান কররানী পরাজিত হলে বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।
প্রশ্ন ২৫.
মুর্শিদ কুলি খান রাজধানী কোথায় স্থানান্তর করেন?
A. ঢাকা
B. রাজমহল
C. মুর্শিদাবাদ
D. গৌড়
✅ সঠিক উত্তর: C. মুর্শিদাবাদ
📖 ব্যাখ্যা: মুর্শিদ কুলি খান প্রশাসনিক সুবিধার জন্য রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন।
প্রশ্ন ২৬.
বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব কে ছিলেন?
A. আলীবর্দী খান
B. সিরাজউদ্দৌলা
C. মীরকাশিম
D. মীরজাফর
✅ সঠিক উত্তর: B. সিরাজউদ্দৌলা
📖 ব্যাখ্যা: সিরাজউদ্দৌলা ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ পর্যন্ত বাংলার স্বাধীন নবাব ছিলেন।
প্রশ্ন ২৭.
বাংলায় প্রথম আগত ইউরোপীয় কারা?
A. ইংরেজ
B. ফরাসি
C. ডাচ
D. পর্তুগিজ
✅ সঠিক উত্তর: D. পর্তুগিজ
📖 ব্যাখ্যা: বাংলায় সর্বপ্রথম বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে পর্তুগিজরা আসে।
প্রশ্ন ২৮.
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?
A. ১৫৭৬
B. ১৬০০
C. ১৬৯০
D. ১৭৫৭
✅ সঠিক উত্তর: B. ১৬০০
📖 ব্যাখ্যা: ৩১ ডিসেম্বর ১৬০০ সালে রানি প্রথম এলিজাবেথ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে চার্টার প্রদান করেন।
প্রশ্ন ২৯.
কলকাতায় ইংরেজ বাণিজ্যকেন্দ্র স্থাপনের সঙ্গে কার নাম প্রচলিতভাবে যুক্ত?
A. ওয়ারেন হেস্টিংস
B. জব চার্নক
C. রবার্ট ক্লাইভ
D. কর্নওয়ালিস
✅ সঠিক উত্তর: B. জব চার্নক
📖 ব্যাখ্যা: প্রচলিত পরীক্ষাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ১৬৯০ সালে জব চার্নক সুতানুটিতে ইংরেজ বাণিজ্যকেন্দ্র স্থাপন করেন।
প্রশ্ন ৩০.
ফোর্ট উইলিয়াম কোথায় অবস্থিত?
A. মুর্শিদাবাদ
B. ঢাকা
C. কলকাতা
D. চন্দননগর
✅ সঠিক উত্তর: C. কলকাতা
📖 ব্যাখ্যা: কলকাতায় নির্মিত ফোর্ট উইলিয়াম ছিল ইংরেজদের প্রধান সামরিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র।
প্রশ্ন ৩১.
পলাশীর যুদ্ধ কত সালে হয়?
A. ১৭৬৪
B. ১৭৫৭
C. ১৭৬৫
D. ১৭৭২
✅ সঠিক উত্তর: B. ১৭৫৭
📖 ব্যাখ্যা: ২৩ জুন ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
প্রশ্ন ৩২.
পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীর নেতৃত্ব দেন কে?
A. ওয়ারেন হেস্টিংস
B. লর্ড কর্নওয়ালিস
C. রবার্ট ক্লাইভ
D. হেক্টর মনরো
✅ সঠিক উত্তর: C. রবার্ট ক্লাইভ
📖 ব্যাখ্যা: রবার্ট ক্লাইভ ইংরেজ বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে পলাশীর যুদ্ধে বিজয় অর্জন করেন।
প্রশ্ন ৩৩.
পলাশীর যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা করেন কে?
A. মীরমদন
B. মোহনলাল
C. মীরজাফর
D. জগৎশেঠ
✅ সঠিক উত্তর: C. মীরজাফর
📖 ব্যাখ্যা: মীরজাফরের ষড়যন্ত্র পলাশীর যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।
প্রশ্ন ৩৪.
চন্দননগরে কোন ইউরোপীয় শক্তির বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল?
A. ডাচ
B. ফরাসি
C. পর্তুগিজ
D. ডেনিশ
✅ সঠিক উত্তর: B. ফরাসি
📖 ব্যাখ্যা: চন্দননগর ছিল বাংলায় ফরাসিদের প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র।
প্রশ্ন ৩৫.
শ্রীরামপুরে কোন ইউরোপীয় শক্তির উপনিবেশ ছিল?
A. ইংরেজ
B. ডাচ
C. ডেনিশ
D. পর্তুগিজ
✅ সঠিক উত্তর: C. ডেনিশ
📖 ব্যাখ্যা: শ্রীরামপুর (Serampore) ছিল ডেনিশদের প্রধান উপনিবেশ।
প্রশ্ন ৩৬.
পলাশীর যুদ্ধের প্রধান ফলাফল কী?
A. মুঘল সাম্রাজ্যের বিস্তার
B. বাংলায় ব্রিটিশ রাজনৈতিক আধিপত্যের সূচনা
C. সেন বংশের পুনরুত্থান
D. সুলতানি শাসনের পুনঃপ্রতিষ্ঠা
✅ সঠিক উত্তর: B. বাংলায় ব্রিটিশ রাজনৈতিক আধিপত্যের সূচনা
📖 ব্যাখ্যা: পলাশীর যুদ্ধের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলায় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন ৩৭.
আলীবর্দী খান প্রধানত কোন আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য পরিচিত?
A. আফগান
B. মারাঠা
C. পর্তুগিজ
D. ফরাসি
✅ সঠিক উত্তর: B. মারাঠা
📖 ব্যাখ্যা: আলীবর্দী খান বারবার সংঘটিত মারাঠা আক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
প্রশ্ন ৩৮.
মুঘল আমলে বাংলা কোন প্রশাসনিক নামে পরিচিত ছিল?
A. সরকার
B. সুবা
C. মহাল
D. পরগনা
✅ সঠিক উত্তর: B. সুবা
📖 ব্যাখ্যা: মুঘল প্রশাসনে বাংলা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবা (Subah)।
প্রশ্ন ৩৯.
নিম্নের কোনটি বাংলার নবাবদের রাজধানী ছিল না?
A. ঢাকা
B. মুর্শিদাবাদ
C. রাজমহল
D. চন্দননগর
✅ সঠিক উত্তর: D. চন্দননগর
📖 ব্যাখ্যা: চন্দননগর ছিল ফরাসিদের বাণিজ্যকেন্দ্র; এটি বাংলার নবাবদের রাজধানী ছিল না।
প্রশ্ন ৪০.
বাংলার ইতিহাসে ১৭৫৭ সাল কেন গুরুত্বপূর্ণ?
A. বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা
B. পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়
C. কলকাতা প্রতিষ্ঠিত হয়
D. মুর্শিদাবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়
✅ সঠিক উত্তর: B. পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়
📖 ব্যাখ্যা: ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ ভারতের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়, যার ফলে বাংলায় ব্রিটিশ রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।
বক্সারের যুদ্ধ (Battle of Buxar)
সাল
২২ অক্টোবর, ১৭৬৪
যুদ্ধ কার মধ্যে হয়?
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (হেক্টর মনরো)
- মীরকাশিম
- মুঘল সম্রাট শাহ আলম দ্বিতীয়
- আওধের নবাব শুজাউদ্দৌলা
ফলাফল
ইংরেজরা নির্ণায়ক বিজয় লাভ করে এবং বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার উপর তাদের কর্তৃত্ব আরও সুদৃঢ় হয়।
দেওয়ানি লাভ (Diwani Rights)
১৭৬৫ সালে মুঘল সম্রাট শাহ আলম দ্বিতীয় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি (রাজস্ব আদায়ের অধিকার) প্রদান করেন।
পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ
📌 ১৭৬৫ = দেওয়ানি লাভ
দ্বৈত শাসন (Dual Government)
দেওয়ানি লাভের পর রবার্ট ক্লাইভ বাংলায় দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা চালু করেন।
বৈশিষ্ট্য
- রাজস্ব আদায় করত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
- প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকত নবাব।
এই ব্যবস্থার ফলে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং জনগণের দুর্ভোগ বৃদ্ধি পায়।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (Permanent Settlement)
সাল
১৭৯৩
প্রবর্তন করেন
লর্ড কর্নওয়ালিস
উদ্দেশ্য
- স্থায়ীভাবে ভূমি রাজস্ব নির্ধারণ
- জমিদার শ্রেণির মাধ্যমে রাজস্ব আদায়
ফলাফল
- জমিদার শ্রেণির শক্তি বৃদ্ধি
- কৃষকদের উপর শোষণ বৃদ্ধি
- কৃষি ব্যবস্থায় বৈষম্য
🎯 Exam Booster
১৭৯৩ = চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত
লর্ড কর্নওয়ালিস = Permanent Settlement
বাংলার নবজাগরণ (Bengal Renaissance)
উনবিংশ শতাব্দীতে বাংলায় শিক্ষা, সমাজসংস্কার, সাহিত্য ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এক নবজাগরণের সূচনা হয়।
প্রধান ব্যক্তিত্ব
| ব্যক্তিত্ব | অবদান |
|---|---|
| রাজা রামমোহন রায় | ব্রাহ্ম সমাজ, সতীদাহ প্রথা বিলোপ আন্দোলন |
| ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর | বিধবা বিবাহ, নারী শিক্ষা |
| বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | "বন্দে মাতরম্" রচনা |
| মাইকেল মধুসূদন দত্ত | বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ |
| রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | নোবেলজয়ী সাহিত্যিক |
| স্বামী বিবেকানন্দ | রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা |
বঙ্গভঙ্গ (Partition of Bengal)
সাল
১৯০৫
ঘোষণা করেন
লর্ড কার্জন
উদ্দেশ্য (সরকারি যুক্তি)
- প্রশাসনিক সুবিধা
জাতীয়তাবাদীদের মত
- হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের মাধ্যমে রাজনৈতিক আন্দোলন দুর্বল করা।
ফলাফল
- স্বদেশি আন্দোলনের সূচনা
- বিদেশি পণ্য বর্জন
- জাতীয় চেতনার উত্থান
বঙ্গভঙ্গ রদ
১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।
স্বদেশি আন্দোলন
বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে সমগ্র বাংলায় স্বদেশি আন্দোলন গড়ে ওঠে।
বৈশিষ্ট্য
- বিদেশি কাপড় বর্জন
- দেশীয় শিল্পের প্রসার
- জাতীয় শিক্ষা আন্দোলন
- রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি
স্বাধীনতা ও দেশভাগ
১৯৪৭
ভারত স্বাধীন হয়।
একই সঙ্গে ব্রিটিশ ভারত বিভক্ত হয়ে—
- ভারত
- পাকিস্তান
এই দুই রাষ্ট্র গঠিত হয়।
বাংলার পশ্চিম অংশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পশ্চিমবঙ্গ নামে পরিচিত হয়।
পশ্চিমবঙ্গের গঠন
১৫ আগস্ট ১৯৪৭
ভারতের অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের যাত্রা শুরু হয়।
পরবর্তীকালে রাষ্ট্র পুনর্গঠন আইন, ১৯৫৬-এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান ভৌগোলিক কাঠামো আরও সুসংহত হয়।
🎯 Final Exam Booster
গুরুত্বপূর্ণ সাল
| সাল | ঘটনা |
|---|---|
| ১৭৫৭ | পলাশীর যুদ্ধ |
| ১৭৬৪ | বক্সারের যুদ্ধ |
| ১৭৬৫ | দেওয়ানি লাভ |
| ১৭৯৩ | চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত |
| ১৯০৫ | বঙ্গভঙ্গ |
| ১৯১১ | বঙ্গভঙ্গ রদ |
| ১৯৪৭ | স্বাধীনতা ও দেশভাগ |
📌 পরীক্ষায় বারবার আসা তথ্য
| বিষয় | উত্তর |
|---|---|
| বক্সারের যুদ্ধ | ১৭৬৪ |
| দেওয়ানি লাভ | ১৭৬৫ |
| দ্বৈত শাসন | রবার্ট ক্লাইভ |
| চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত | ১৭৯৩ |
| প্রবর্তক | লর্ড কর্নওয়ালিস |
| বঙ্গভঙ্গ | ১৯০৫ |
| বঙ্গভঙ্গ রদ | ১৯১১ |
| স্বাধীনতা | ১৯৪৭ |
📝 MCQ (৪১–৬০)
প্রশ্ন ৪১.
বক্সারের যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?
✅ সঠিক উত্তর: B. ১৭৬৪
📖 ব্যাখ্যা: ২২ অক্টোবর ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা ভারতে ব্রিটিশ শক্তিকে আরও সুসংহত করে।
প্রশ্ন ৪২.
দেওয়ানি লাভ কত সালে হয়?
✅ সঠিক উত্তর: C. ১৭৬৫
📖 ব্যাখ্যা: ১৭৬৫ সালে শাহ আলম দ্বিতীয় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি প্রদান করেন।
প্রশ্ন ৪৩.
বাংলায় দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা চালু করেন কে?
A. ওয়ারেন হেস্টিংস
B. রবার্ট ক্লাইভ
C. কর্নওয়ালিস
D. ডালহৌসি
✅ সঠিক উত্তর: B. রবার্ট ক্লাইভ
📖 ব্যাখ্যা: দেওয়ানি লাভের পর রবার্ট ক্লাইভ বাংলায় দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
প্রশ্ন ৪৪.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তিত হয় কত সালে?
A. ১৭৬৫
B. ১৭৯৩
C. ১৮১৩
D. ১৮৩৩
✅ সঠিক উত্তর: B. ১৭৯৩
📖 ব্যাখ্যা: ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করেন।
প্রশ্ন ৪৫.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রবর্তক কে?
A. রবার্ট ক্লাইভ
B. ওয়ারেন হেস্টিংস
C. লর্ড কর্নওয়ালিস
D. ডালহৌসি
✅ সঠিক উত্তর: C. লর্ড কর্নওয়ালিস
📖 ব্যাখ্যা: কর্নওয়ালিস জমিদারি ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে স্থায়ী রাজস্ব ব্যবস্থা চালু করেন।
প্রশ্ন ৪৬.
ব্রাহ্ম সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন কে?
A. বিদ্যাসাগর
B. রাজা রামমোহন রায়
C. কেশবচন্দ্র সেন
D. বিবেকানন্দ
✅ সঠিক উত্তর: B. রাজা রামমোহন রায়
📖 ব্যাখ্যা: ১৮২৮ সালে রাজা রামমোহন রায় ব্রাহ্ম সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রশ্ন ৪৭.
বিধবা বিবাহ আন্দোলনের সঙ্গে কার নাম জড়িত?
A. বঙ্কিমচন্দ্র
B. বিদ্যাসাগর
C. রবীন্দ্রনাথ
D. মধুসূদন
✅ সঠিক উত্তর: B. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
📖 ব্যাখ্যা: বিদ্যাসাগর বিধবা বিবাহ আইন প্রবর্তন ও নারী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
প্রশ্ন ৪৮.
"বন্দে মাতরম্" রচনা করেন কে?
A. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
B. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
C. নজরুল ইসলাম
D. দীনবন্ধু মিত্র
✅ সঠিক উত্তর: B. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
📖 ব্যাখ্যা: "বন্দে মাতরম্" উপন্যাস আনন্দমঠ-এ অন্তর্ভুক্ত এবং এটি ভারতের জাতীয় আন্দোলনের প্রেরণার উৎস।
প্রশ্ন ৪৯.
বঙ্গভঙ্গ ঘোষণা করেন কে?
A. লর্ড কার্জন
B. লর্ড রিপন
C. ডালহৌসি
D. লর্ড মিন্টো
✅ সঠিক উত্তর: A. লর্ড কার্জন
📖 ব্যাখ্যা: ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করেন।
প্রশ্ন ৫০.
বঙ্গভঙ্গ কত সালে হয়?
A. ১৯০৩
B. ১৯০৫
C. ১৯১১
D. ১৯১৯
✅ সঠিক উত্তর: B. ১৯০৫
📖 ব্যাখ্যা: ১৬ অক্টোবর ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয়।
প্রশ্ন ৫১.
বঙ্গভঙ্গ রদ হয় কত সালে?
A. ১৯০৮
B. ১৯১১
C. ১৯১৫
D. ১৯২০
✅ সঠিক উত্তর: B. ১৯১১
📖 ব্যাখ্যা: তীব্র আন্দোলনের ফলে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।
প্রশ্ন ৫২.
স্বদেশি আন্দোলনের সূচনা কোন ঘটনার প্রতিবাদে?
A. জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড
B. বঙ্গভঙ্গ
C. রাওলাট আইন
D. সাইমন কমিশন
✅ সঠিক উত্তর: B. বঙ্গভঙ্গ
📖 ব্যাখ্যা: বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদ থেকেই স্বদেশি আন্দোলনের সূচনা হয়।
প্রশ্ন ৫৩.
রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন কে?
A. রবীন্দ্রনাথ
B. স্বামী বিবেকানন্দ
C. বিদ্যাসাগর
D. কেশবচন্দ্র সেন
✅ সঠিক উত্তর: B. স্বামী বিবেকানন্দ
📖 ব্যাখ্যা: ১৮৯৭ সালে স্বামী বিবেকানন্দ রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রশ্ন ৫৪.
ভারত স্বাধীন হয় কত সালে?
A. ১৯৪৫
B. ১৯৪৬
C. ১৯৪৭
D. ১৯৫০
✅ সঠিক উত্তর: C. ১৯৪৭
📖 ব্যাখ্যা: ১৫ আগস্ট ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা লাভ করে।
প্রশ্ন ৫৫.
দেশভাগের ফলে পশ্চিমবঙ্গ কোন দেশের অংশ হয়?
A. পাকিস্তান
B. বাংলাদেশ
C. ভারত
D. নেপাল
✅ সঠিক উত্তর: C. ভারত
📖 ব্যাখ্যা: ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটি রাজ্য হিসেবে গঠিত হয়।
প্রশ্ন ৫৬.
বাংলার নবজাগরণের জনক হিসেবে কাকে অভিহিত করা হয়?
A. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
B. রাজা রামমোহন রায়
C. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
D. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
✅ সঠিক উত্তর: B. রাজা রামমোহন রায়
📖 ব্যাখ্যা: সমাজসংস্কার ও আধুনিক চিন্তার প্রসারের জন্য রাজা রামমোহন রায়কে বাংলার নবজাগরণের জনক বলা হয়।
প্রশ্ন ৫৭.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে কোন অবদানের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত?
A. ছোটগল্প
B. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
C. উপন্যাস
D. নাট্যাভিনয়
✅ সঠিক উত্তর: B. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
📖 ব্যাখ্যা: বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তনে মাইকেল মধুসূদন দত্তের বিশেষ অবদান রয়েছে।
প্রশ্ন ৫৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন ক্ষেত্রে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?
A. বিজ্ঞান
B. অর্থনীতি
C. সাহিত্য
D. শান্তি
✅ সঠিক উত্তর: C. সাহিত্য
📖 ব্যাখ্যা: ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
প্রশ্ন ৫৯.
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান ভৌগোলিক কাঠামো সুসংহত করতে কোন আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
A. ভারত শাসন আইন, ১৯৩৫
B. রাষ্ট্র পুনর্গঠন আইন, ১৯৫৬
C. ভারতীয় স্বাধীনতা আইন, ১৯৪৭
D. সংবিধান (৪২তম সংশোধনী)
✅ সঠিক উত্তর: B. রাষ্ট্র পুনর্গঠন আইন, ১৯৫৬
📖 ব্যাখ্যা: ১৯৫৬ সালের রাষ্ট্র পুনর্গঠন আইনের মাধ্যমে ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের সীমানায়ও পরিবর্তন আসে।
প্রশ্ন ৬০.
পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস অধ্যয়নের প্রধান উদ্দেশ্য কী?
A. শুধু সাল মুখস্থ করা
B. শুধু রাজাদের নাম জানা
C. রাজ্যের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বিবর্তন সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন
D. শুধুমাত্র স্বাধীনতা আন্দোলন জানা
✅ সঠিক উত্তর: C. রাজ্যের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বিবর্তন সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন
📖 ব্যাখ্যা: পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস অধ্যয়নের মাধ্যমে প্রাচীন যুগ থেকে আধুনিক সময় পর্যন্ত রাজ্যের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা বোঝা যায়।
📚 উপসংহার (Conclusion)
পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস ভারতের ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রাচীন বঙ্গ, গৌড় ও পুণ্ড্র থেকে শুরু করে পাল ও সেন শাসন, সুলতানি ও মুঘল যুগ, ব্রিটিশ শাসন, বাংলার নবজাগরণ, বঙ্গভঙ্গ ও স্বদেশি আন্দোলন, এবং স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গের গঠন—প্রতিটি অধ্যায় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়ভিত্তিক অধ্যয়ন, টাইমলাইন অনুশীলন এবং নিয়মিত MCQ সমাধান এই অধ্যায়ে ভালো নম্বর অর্জনে সহায়ক হবে।
❓ FAQ
১. বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজা কে?
উত্তর: শশাঙ্ক।
২. পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
উত্তর: গোপাল।
৩. বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব কে ছিলেন?
উত্তর: সিরাজউদ্দৌলা।
৪. পলাশীর যুদ্ধ কত সালে হয়?
উত্তর: ২৩ জুন ১৭৫৭।
৫. বঙ্গভঙ্গ কত সালে কার্যকর হয়?
উত্তর: ১৬ অক্টোবর ১৯০৫।
Related Article:

